অপরিশোধিত তেলের সংকটে চট্টগ্রামের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কোম্পানির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী সোমবার বিকালের পর শোধনাগারটি আর কোনো তেল পরিশোধন করতে পারেনি।
ইস্টার্ন রিফাইনারির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের স্টোরেজ ট্যাংকে তেলের পরিমাণ সর্বনিম্ন সীমার নিচে নেমে গেছে। এ কারণে তারা তেল শোধনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, সাধারণত তেলের ট্যাংকের নিচে অন্তত দেড় মিটার উচ্চতা পর্যন্ত তেল জমা রাখতে হয়। একে কারিগরি ভাষায় ‘ডেডস্টক’ বলা হয়। গত রোববার বিকালে এই তেলের স্তর এক মিটারের নিচে নেমে যায়। তেলের স্তর এতো নিচে নেমে গেলে সেটি আর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। কারণ ট্যাংকের একদম নিচের অংশে বর্জ্য ও তলানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই ময়লাযুক্ত তেল ব্যবহার করলে শোধনাগারের মূল্যবান যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কারিগরি ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মূলত কারিগরি নিরাপত্তা ও যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কথা ভেবেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিপিসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারছে না।
বিপিসি সূত্র জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে সাধারণত ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করে থাকে। এই শোধনাগার থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য দেশের জ্বালানি তেলের বিশাল চাহিদা পূরণ করে। বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


