জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের উত্তর গেটে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে রিজভী বলেন, জাতিসংঘের এই অধিবেশনে তিন প্রজন্মের ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা ১৯৮০ সালে এবং মা ১৯৯২ সালে এই বিশ্ব সংস্থায় ভাষণ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মারণাস্ত্রের বদলে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা এবং মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার করার আহ্বান ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক বজায় রাখা, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যুদ্ধ মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সাধারণ মানুষ সবসময় শান্তি চায়, কোনো যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ সংঘটিত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ বেকার হয়ে পড়ে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি কোনো পাতানো বা মিডনাইট নির্বাচনে নয়, বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। জনগণের কল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্যই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং আগুন দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে নস্যাৎ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বাংলাদেশকে যারা উপনিবেশ বা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ও মোড়ে মোড়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।


