যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট।
রোববার দুপুরে ম্যানচেস্টার থেকে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এসময় যাত্রীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে, শনিবার ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যায় বিমানের আরেকটি ফ্লাইট।

এই উপলক্ষে বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে দেশের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। শুধু বিমান যাত্রী আনা-নেওয়াই নয়, বরং এই অঞ্চলের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবং তারা যাতে স্বস্তিতে ও সাশ্রয়ী সময়ে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য এই রুটটি চালুর ব্যাপারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে বিমান লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে ভবিষ্যতে এই ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।’
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান সম্প্রসারণ শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘এই কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও বেশি ফোকাস পাবে।’ এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করলে এই রুটটি পুনরায় চালু করা হবে।


