চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে গত দুই মাসে অন্তত পাঁচবার রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় প্রতিবারই ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই সময়ে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শিবগঞ্জের চকপাড়া সীমান্তের মুসলিমপাড়া এলাকা দিয়ে বিএসএফ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পরদিন ভোরে তাদের ভারতের মালদা হোল্ডিং সেন্টারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে ২০ জুন চৌকা সীমান্তে ২০ জন, ১৫ জুন রোকনপুর সীমান্তে এক নারী, ১৩ জুন নদীপথে একই সীমান্তে ১৫ জন ও ৪ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে সর্বোচ্চ ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রতিটি ঘটনায় বিজিবির বাধা ও ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ১৫ জুনের ঘটনায় অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে রোকনপুর গ্রামের সাতজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা এখন বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে রাতে স্বেচ্ছাসেবী পাহারা দিচ্ছেন। রোকনপুরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সবাই সতর্ক। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গ্রামবাসীরা পাহারা দিচ্ছে।’
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির টহলের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা সীমান্ত সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে।


