আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার বিকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ‘অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চস্তর পর্যন্ত একে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া অফিসারের অধীনে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সিলেট থেকে একযোগে ৬৪ জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করেছেন, যা আগামী বছর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হবে।
জাতীয় খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে ৩০০ জনকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে ভাতার আওতায় আনা হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব উদ্দিন এবং ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক এম. এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
তিন দিনব্যাপী এই আসরে অ্যাথলেটিক্সের মোট ৩০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত ১৯টি ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে ১০০, ২০০, ৪০০, ৮০০, ১ হাজার ৫০০, ৫ হাজার ও ১০ হাজার মিটার দৌড়; বর্শা, গোলক, চাকতি ও হ্যামার নিক্ষেপ; দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, লাফ ধাপ ঝাঁপ, পোল ভোল্ট এবং হার্ডেলস ও রিলে দৌড়।
ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ১১টি ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গতির স্প্রিন্ট, হার্ডেলস, বর্শা, গোলক ও চাকতি নিক্ষেপ এবং উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ ও রিলে দৌড়। অ্যাথলেটিক্সের পাশাপাশি ছাত্রদের বাস্কেটবল প্রতিযোগিতাও এই আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


