চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও নগরের পাঁচলাইশে আলাদা পাহাড়ধসের ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশু ও ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে ভারী বর্ষণের মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকালে নগরের রহমান নগরে দেয়াল ধসে এক যুবক ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঘরের ওপর পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত হন পাঁচজন।
সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলিনগরের পাশে ৬ নম্বর সমাজ এলাকায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে পাহাড়ের মাটির একাংশ ধসে একটি কাঁচা ঘরের ওপর পড়ে। এতে মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার বাগানবাড়ির বাসিন্দা মহিন উদ্দীনের ছেলে। এ ঘটনায় শিশুটির মা আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে কাঁচা ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশুটি মারা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ঘেঁষা ছিন্নমূল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতিবছরই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপসারণ ও নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে একই দিন সকাল ৯টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা হিল এলাকার মেয়র গলির এয়াকুব আলী মসজিদের শেষ প্রান্তের ৩ নম্বর গলিতে পাহাড়ধসে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় বাবুর কলোনির বাসিন্দা মো. ফারুকের মেয়ে। এলাকাটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়া কিশোরীর মরদেহ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, পাহাড়ের মাটির স্তূপ একটি টিনশেড ঘরের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা সুমাইয়া ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


