চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হাটহাজারীর যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হাটহাজারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় হানিফের নাম রয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়টি মামলা রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ফতেপুর ইউনিয়নে ‘মাফিয়া’ হয়ে আধিপত্য বজায় রাখছিলেন যুবলীগ নেতা হানিফ। তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন ছোট ভাই ইকবাল। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, গাছ চুরি ও বিক্রি, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিলো হানিফ-ইকবাল চক্র। তাদের নামে হাটহাজারীসহ বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা থাকলেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
গত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকার দোকান দখল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় হানিফের অনুসারীরা। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট রাতে একজন ছাত্রীকে মারধরের ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ শিক্ষার্থী আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব ঘটনায় পৃথক মামলা করলে সেখানে হানিফকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া চবি রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় থাকা অধিকাংশ দোকানের নিয়ন্ত্রণ ছিল হানিফের হাতে। দোকান পরিচালনা করতে তাকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো। ফতেপুর ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নতুন কোনো দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করতে হলেও নিতে হতো তার ‘অনুমতি’। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, ভাঙচুর ছিল নিয়মিত ঘটনা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হৃদয় তরুয়া হত্যা মামলাতে হানিফের ভাই ইকবালের নাম রয়েছে।


