ঈদের আগ মুহূর্তে চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা টেরিবাজারের একটি বহুতল ভবনে লাগা আগুনের দুই জন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন–চতুর্থ তলার একটি টেইলার্সের কর্মচারী পটিয়ার বধুপুর মির্জাবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন খালিফার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) ও পটিয়া থানাধীন বোয়ালখাল ইউনিয়নের পাচুরিয়া এলাকার মামুনুল কাদেরের ছেলে সোলাইমান।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১০ তলা বিশিষ্ট কে বি অর্কিড প্লাজায় আগুন লাগে। চতুর্থ তলার ওই টেইলার্সের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফিয়াল ফারুক জানান, সকালে ৯টা ৫৫ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। টানা প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর সকালে ১০টা ৫৩ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনায় আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে পাশের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশেক জানান, আগুনে আহতদের মধ্যে দুই জনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত মোহাম্মদ মামুন নামে একজনকে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে টেইলার্সের দোকানে আগুনের সূত্রপাত সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। দোকানটিতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ ছিল বলে দাবি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরির পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ আসার পরপরই আগুনের ঘটনা ঘটে।
কে বি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচ তলা জুড়ে শপিং মল এবং উপরের পাঁচ তলায় আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটিতে জুয়েলারি দোকান, ব্যাংকের শাখা ও টেইলার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুন মূলত চতুর্থ তলা থেকে উপরের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।


