গ্যাস লিকেজের ঘটনা ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধের জন্য তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, ‘গতকাল চট্টগ্রামে এবং আজ কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও স্বাস্থ্য- এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ শুরু হবে।’
মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রামের হালিশহর এবং কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, দেশে তিন ধরনের দুর্যোগ ঘটে, তার মধ্যে একটি মানবসৃষ্ট। সারা বছরই দেশের কোথাও না কোথাও গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
‘দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এটা কীভাবে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়, অল্প সময়ের মধ্যে তিন মন্ত্রণালয় বসে সে বিষয়ে কাজ করবে যেন ভবিষ্যতে এরকম দুর্ঘটনায় কোন ক্ষতি না হয়’ যোগ করেন তিনি।
এ সময় বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। আরও কিছু লাগলে তা দ্রুত সরবরাহ করা হবে।’
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস জমে থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। সর্বোচ্চ শতভাগ দগ্ধও আছেন। সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরও ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
এর আগে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের নয়জন দগ্ধের ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। বাকিরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।


