বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানতে চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
একইসঙ্গে সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও মামলাসংক্রান্ত আলোচিত বিষয় এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুজব নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য এসব প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
তবে শফিকুল ইসলাম মাসুদের উত্থাপিত বিষয়গুলো কোনো পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জবাবে স্পিকার জানান, মির্জা আব্বাস সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তার অবস্থা ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যথাসময়ে সংসদে যোগ দেবেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিভিন্ন গুজব প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, কে কী বলেছে বা কার সম্পর্কে কী বোঝানো হয়েছে, এসব নিয়ে জাতীয় সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা যায় না। আর যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।
কারও সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক বা আইনি কোনো সিদ্ধান্ত হলে সংসদকে যথাসময়ে তা অবহিত করা হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংসদের সময় ব্যয় না করার এবং পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের ক্ষেত্রে চলমান সংসদীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে বলেন, মির্জা আব্বাস দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদের অভিজ্ঞ সদস্য। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা, শপথ গ্রহণসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং কবে তিনি সংসদে যোগ দিতে পারবেন, সে বিষয়ে সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও মামলাসংক্রান্ত যে বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থাও সংসদ সদস্যদের জানা দরকার। তারা সংসদীয় কার্যক্রমে কী ভূমিকা পালন করছেন এবং কবে সংসদে যোগ দেবেন সে বিষয়েও স্পষ্টতা থাকা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুজব ও আলোচিত বক্তব্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য এবং সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারসংক্রান্ত যে আলোচনা ও গুজব ছড়িয়েছে, সে বিষয়েও সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন।
এ সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও গুজব নিয়ে সংসদে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।


