পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। চেয়ারে বসার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে সুশিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে মো. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শামীম আহসান তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে উপাচার্য কার্যালয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাবিপ্রবির সপ্তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসনাত মোহা. শামীমকে চার বছরের জন্য পাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন।
দুপুরে নবনিযুক্ত উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, গবেষণা সেলের পরিচালক, রেজিস্ট্রার ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
সভায় উপাচার্য আবুল হাসনাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে সুশিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিভাগ চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রচলিত ধারার বাইরে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাবিপ্রবিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সভায় শিক্ষকরাও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় উপউপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শামীম আহসান উপস্থিত ছিলেন।
আবুল হাসনাত মোহা. শামীম ১৯৭৬ সালের ১৫ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১ সালে মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৭ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রকল্পে কাজ করেন। এ ছাড়া, শিক্ষা কমিশন-২০০৩ এ গবেষণা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে জাপানের ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক জার্নাল ও বিভিন্ন গ্রন্থে তার ৪০টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ভেষজ উদ্ভিদ ও মাটির স্ট্রেপটোমাইসিস প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশক উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছেন। এছাড়া তার রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কৃষিশিক্ষা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের বই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পড়ানো হচ্ছে।
গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। নিজ গ্রামে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লেখেন।


