গবেষণা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে যারা নতুন উদ্ভাবন ও সফল গবেষণা করবেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দিয়ে ভূষিত করা হবে। পাশাপাশি তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘লাল কার্পেটের অভ্যর্থনা নয়, আপনাদের গবেষণার সফলতা আমাকে আনন্দিত করবে। গবেষণায় অর্থায়নে কোনো কার্পণ্য নেই, বরং বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।’
‘যারা ভুট্টার গাছকে মহিষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবেন বা দেশি মুরগির জাত উন্নয়নে সফল হবেন, তাদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে।’
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসেই কৃষক কার্ড প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ নানা কাজ শুরু করেছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
এ ছাড়া, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় বিজ্ঞানীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
‘আফ্রিকানসহ বিভিন্ন দেশ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল চাচ্ছে। সত্যিকারের ব্ল্যাক বেঙ্গলের মাংসের দাম বেশি। এটি আমাদের নিজস্ব প্রজাতি। আপনারা এটির উন্নয়ন করুন। মুন্সিগঞ্জের মীর কাদিম হারিয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করছেন, এটি ভালো দিক।’
তিনি বলেন, ‘দেশি মুরগির ডিম ও মাংসের উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে উন্নত জাত সরবরাহ করতে হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি বিএলআরআইয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি ও নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক সভাপতির বক্তব্যে জানান, গবেষণার ফলে দেশি মুরগির ডিমের উৎপাদন বছরে ৫০টি থেকে ৩০০টিতে উন্নীত হয়েছে। তিনি পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা ‘পোল্ট্রি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ করার দাবি জানান।
এর আগে, সকালে মন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বিএলআরআই চত্বরে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। সভা শেষে তিনি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন ল্যাবরেটরি, দেশি মুরগির খামার, ক্যাটেল ও মহিষ গবেষণা খামার পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএলআরআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।


