বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে অবদান রেখেছেন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে।
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন বক্তারা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এবং রাষ্ট্রীয় শোক পালন করতে এ সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম রুমি জানান, ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার গঠনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং খালেদা জিয়া নিজেই প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১-২০০৬ মেয়াদেও এই মন্ত্রণালয় তার অধীনে ছিল। ২০০৬ সালের শেষ দিকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেন, যা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক সিদ্দিকী জানান, নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালু করা হয়, যার ফলে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া ১৯৯২ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য আলাদা পরিবীক্ষণ ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
এ সময় তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বগুণ, আত্মত্যাগ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার প্রতি করা জেল-জুলুম, বিচারবহির্ভূত হয়রানি ও চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভা শেষে অধিদপ্তরের পেশ ইমামের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় চার শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী সানজিদা ইসলাম তুলি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ করেন। উপস্থিত ছিলেন–অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পিইডিপি-৪) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, উপপরিচালক (অডিট সেল) খন্দকার মো. ইকবাল হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি ও ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল হাসান, বাংলাদেশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি ও সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও ডেমরা থানার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিলন মিয়া।


