বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বগুড়ার পুত্রবধূ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বগুড়ার সব থানা, উপজেলা, শহর এবং গ্রামে।
সকালে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই এ অঞ্চলের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী শোক পালনে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বগুড়ার বাগবাড়িতে জিয়াউর রহমানের বাড়িতে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত সকল প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির নবাববাড়ি কার্যালয়ে সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ জেলার হাজার-হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে এই শোক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জেলার প্রতিটি রাস্তায়, চায়ের দোকানে, পাড়ায়-মহল্লায়, অফিস-আদালতে অনেক মানুষ বিএনপির এই ‘আপোষহীন নেত্রী’র মৃত্যুতে গভীর শোকে কাতর হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় এক হৃদয়-বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রিকশাচালক আবু হেলাল বলেন, ‘নেত্রীর জন্য মনটা ছটফট করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরে তার জন্য দোয়া করব।’
গাবতলীর অটোচালক শফিকুল ইসলাম এবং বগুড়ার ভ্রাম্যমাণ দোকানি কাইয়ুম আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া যতবার ভোটে দাঁড়াচে হামরা ততবারই ভোট দিচি। শেখ হাসিনা তাক চিকিৎসা করবের দেয়নি, বিদেশও যাবার দেয়নি। এজন্য বেশি কষ্ট পাচি।’
গাবতলীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয়ে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর মৃত্যুতে তারা একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারালেন। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো খালেদা জিয়া আসবে না। তার মৃত্যুর খবরে গাবতলীবাসী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।’
বিএনপির সহসভাপতি জুলফিকার হায়দার গামা বলেন, ‘পুরো গাবতলী উপজেলায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসায় তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।’
শোকাহত গাবতলীর সর্বস্তরের মানুষ মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।গাবতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি শুধু আমাদের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মা।’
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র তার এক অবিচল অভিভাবককে হারাল।’
এছাড়া সারিয়াকান্দি-সোনাতলার কাজী রফিকুল ইসলাম, নন্দীগ্রাম-কাহলুর সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন, শেরপুর ধুনটের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, দুপচাঁচিয়া আদমদীঘির আব্দুল মুহিত তালুকদার তাদের প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামী ৭ দিনের কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করার জন্যে জেলার সব ইউনিটগুলোতে দোয়া খায়েরের ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।


