সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
ইউজিসি
খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তায় দিয়েছেন ড. ফায়েজ।
ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিনের পাঠানো হয় ওই শোকবার্তায় বলা হয়, দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেত্রী খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি একজন অনুকরণীয় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তার এই প্রয়াণ জাতির জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান ড. ফায়েজ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউজিসির মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এছাড়া, তার শাসনামলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে নারী শিক্ষার প্রসারেও তার অনবদ্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে চিরদিন স্মরণ করবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।
এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও নির্ভরতার প্রতীক। তার আপোষহীন নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে দেশ সংকটময় পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তার ইন্তেকালে দেশ একজন অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীকে হারাল, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতার সৃষ্টি করবে।’
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার নিরলস সংগ্রাম ও ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে দিকনির্দেশনা দেবে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অনন্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকবার্তায় তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও গভীর শোক জানান। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তার পরিবার-পরিজন, সমর্থক ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আইনজীবী সমিতি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুবউদ্দিন খোকনের সই করা শোকবার্তায় তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের অভিভাবক। দেশের রাজনৈতিক সংকটের এই মুহূর্তে তার মৃত্যু এক বিশাল শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। জাতি এই শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করবে বলেও আশা করা হয় শোকবার্তায়।
আইনজীবী ফোরাম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
আইনজীবী ফোরাম বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ দেশের সব আইনজীবী সমিতিতে শোক বই খোলার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্মেলন কক্ষে আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বদরুদ্দোজা বাদল সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম।
পরে এক শোক বার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেতৃবৃন্দ বিএনপি ঘোষিত সাত দিনের শোক কর্মসূচি, কালোবাজ ধারণ এবং রাষ্ট্র ঘোষিত সকল কর্মসূচির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারসহ সকল বারে শোক বই খোলার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
আইন সমিতি
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আইন সমিতি। এক শোক বার্তায় আইন সমিতি খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছে।
মঙ্গলবার সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোক বার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রীও ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী অন্দোলনে আওয়ামী লীগ এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করে বেইমানি করলেও খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের সঙ্গে আপোষ করেননি। তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলে।
তিনি দেশের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে মাথানত না করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংগ্রাম ও লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে অমানবিকভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে, ফরমায়েশি রায় দিয়ে জেলা খাটিয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।


