বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে বিদেশ নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে মেডিকেল বোর্ড। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত আছে, তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায়, বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আসতে পারেনি। তবে ওই সময় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সে সময় যাওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্স এখন প্রস্তুত আছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা দেশি–বিদেশি চিকিৎসকেরাও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসছে ৯ ডিসেম্বর
এদিকে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, খালেদা জিয়াকে নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসবে ৯ ডিসেম্বর এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবে।
তিনি আরও জানান, ভিভিআইপি মুভমেন্ট হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ল্যান্ডিং থেকে টেকঅফ পর্যন্ত সব ধরনের নিরাপত্তা ও অপারেশনাল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় রুট ও অবতরণের সময় চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সক্রিয় হয়ে উঠবে, যোগ করেন তিনি।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
৩০ নভেম্বর ভোরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা এখনো খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।


