শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আট দফা দাবির বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর, খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসূচি মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে জুম্ম ছাত্র জনতা।
সংগঠনটি জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল।
এর অংশ হিসেবে ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় অবরোধ চলাকালে সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হন। হামলাকারীরা বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে, সোমবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় জুম্ম ছাত্র জনতার ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরে। প্রশাসন তাদের দাবির বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয় এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। গুইমারা হামলার তদন্তে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দুপুরে গুইমারার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জুম্ম ছাত্র জনতা জানায়, তাদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সংগঠনের সমন্বয়ক ও বিএমএসসির ছাত্রনেতা উক্যনু মারমা বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ন্যায়বিচার আদায় করা।’
তবে সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আট দফা দাবি বাস্তবায়িত না হলে তারা পুনরায় কঠোর আন্দোলন শুরু করবে।


