বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার গুলশানে হোটেলে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. সামিউল ইসলাম এ তথ্য জানান।
আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগী তরুণীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেছেন রায়হান। পেস বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল বাংলাদেশ ‘এ’দলের খেলোয়াড়।
মো. সামিউল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সাক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে আসামি তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।
তবে তরুণী রাজি না হলেও তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে আসামি তোফায়েল তাকে ধর্ষণ করেন। তখন অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে তরুণীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই তরুণী তাকে বিয়ের কথা বললে তোফায়েল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি তিনি।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাটি মামলার ছয় মাস আগে হয়েছে বিধায় কোনো আলামত জব্দ করা সম্ভব হয়নি। মামলার বাদী নিজেও কোনো আলামত উপস্থাপন করতে পারেননি। হোটেলে রক্ষিত রেজিস্ট্রার বুকের গেস্ট বুকিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, তরুণী ও আসামির পাসপোর্ট কপি জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিষয়টি সমাধানে তার পরিবারের কাছে গিয়েও ফল পাওয়া যায়নি।
এক পর্যায়ে বিসিবি সভাপতিকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। এইভাবে প্রতিনিয়ত পদে পদে অনেকভাবে সম্মানহানি হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। আমি আদালতে ন্যায় বিচার চাই।’


