সার আমদানিতে দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকির প্রতিবাদে ‘কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের অপসারণের’ দাবি জানিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক সমাজ’। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
এ সময় কৃষি সচিবের অপসারণ, সাংবাদিকদের হুমকির বিচার এবং সার দুর্নীতির তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবিও জানান তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য রাজু আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আল আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ এর সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল হক কাইউম, হুমায়ুন কবির, এইচ আর শফিক, মোঃ মতিউর রহমান সরদার, কাজী আবির আসলাম, আলী আশ্রাফ আকন্দ প্রমুখ।
সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য রাসেল আহমেদ, মেহেদী হাসান, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জাহিদ, মেহরুন আশ্রাফ, সৈয়দ জাহিদুল হক টিপু, বদীউল আলম চৌধুরী ও সাংবাদিক তাজ উদ্দিন আহমেদ, পৃতি জান্নাত, তৃপ্তি, লায়লা রুণা প্রমুখ।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সমন্বয়ক এস এম তাজুল ইসলাম।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ‘আমাদের সময়’, ‘আজকের পত্রিকা’, ‘ঢাকা টাইমস’ ও ‘নয়া দিগন্ত’ সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার আমদানিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়। এতে কৃষি সচিব ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের ‘হুমকি’ দেন এবং ‘অশালীন ভাষায় গালিগালাজ’ করেন।
তারা জানান, কৃষি সচিবের অনিয়মের তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি)। তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা দরপত্রের নিয়ম ভেঙে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকার সার আমদানির সুযোগ দিয়েছে।
তার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, একই ধরনের সার (ডিএপি ও টিএসপি) সেই সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন দামে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, যা সরকারি ক্রয় নীতির লঙ্ঘন। ‘বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’কে ডিএপি সার মিশর থেকে ৮৭৪ ডলার/টন এবং চীন থেকে ৮৪৮ ডলারে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। অথচ একই দরে ‘এনআরকে হোল্ডিং’কেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টিএসপি সারের ক্ষেত্রেও একই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা জানান, সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করে চলতি বোরো মৌসুমকে হুমকির মুখে ফেলতে চাইছে। তাই অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।


