কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: মন্ত্রী

কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: মন্ত্রী
Advertisement
Advertisement

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার কৃষক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। যার মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।’

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্তণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কারণ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষি খাতের উন্নয়ন হলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে, আর সেই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিও স্থায়ীভাবে মজবুত হবে।’

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের মধ্যে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং উৎপাদন ব্যয় কম হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পূর্বে পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত দিকনির্দেশনার অংশ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ নির্দষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নেবে। অবৈধভাবে এক ফোঁটা মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না।’ এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad