কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা অংশ নেন।
তবে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারেনি যৌথবাহিনী। পরে তারা খালি হাতেই ফিরে যায়। এ সময় অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে আনোয়ার আলীর সমর্থকরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
আনোয়ার আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র।
এদিকে, আনোয়ার আলীর বাড়িতে অভিযানকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর অভি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি পোস্ট দিয়ে আনোয়ার আলীর বাড়িতে লোকসমাগমের আহ্বান জানান এবং বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বা পরে পোস্টটি সংশোধন করে কুতুব শব্দটি মুছে ফেলা হয়।
তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির কোন নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবে বাড়ির ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।’
দলীয় একাধিক সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালের দিকে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি মীর সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া-ঢাকা মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়। কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ,জেলা ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা আনোয়ার আলী ও তার ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনুর অনুগত। এর আগে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে তাদের দুজনের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে মাহবুবউল আলম হানিফের সঙ্গে আনোয়ার আলীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল।
সাবেক মেয়রের ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনুর দলীয় কোন পদ না থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তনুকে ঢাকা থেকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় বর্তমানে তনু জামিনে আছেন।
তারা আরও বলেন, সম্প্রতি আনোয়ার আলী ও তার ছেলের অনুসারীদের দিয়ে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আনোয়ার আলীর দুই ভাতিজাকে।
এ ছাড়া যুবলীগের আহবায়ক করা হয়েছে আনোয়ার আলী ও জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারীদের। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হানিফ সমর্থিতদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ পাচ্ছে।


