কুমিল্লার চান্দিনায় ধান কাটার শ্রমিকের হাতে সমিরন বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ঘর থেকে নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
রোববার ভোরে চান্দিনার সুহিলপুর ইউনিয়নের ওলিপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সমিরন বেগম ওই গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকের সংকট দেখা দিলে গত ২৭ এপ্রিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে চারজন শ্রমিক ভাড়া করে আনেন আবদুল বাতেন মোল্লা। তাদের থাকার জন্য নিজের বাড়িতে একটি কক্ষের ব্যবস্থা করেন তিনি। অন্য দুই ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।
শনিবার সন্ধ্যায় এক শ্রমিক মোবাইল চুরি করে পালিয়ে গেলে রাতে আরও একজনকে নতুন করে ভাড়া করে আনা হয়।
নিহতের ছেলে বশির জানান, প্রতিদিনের মতো ভোরে তার মা নামাজ পড়তে উঠলেও রোববার কোনো শব্দ না পাওয়ায় মায়ের ঘরে গিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নিহত নারীর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচানো ছিল।
পাশের শ্রমিকদের ঘরে তাদের ডাকতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। বশিরের দাবি, তার মা ওই ঘরে একাই ঘুমিয়েছিলেন এবং ওই সুযোগে শ্রমিকরা তার মায়ের ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া শ্রমিকরা তাদের বাড়ি রংপুর, চাঁদপুর ও ঢাকার কথা বললেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ও এসআই আবদুল লতিফ। পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভেই শ্রমিকরা ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
ধান কাটার জন্য শ্রমিক ভাড়ার ক্ষেত্রে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি জমা রাখারও পরামর্শ দেয় চান্দিনা থানা পুলিশ।


