কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার থেকে কালোয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অন্তত দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও বেশকিছু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আহতরা হলেন, বের কালোয়া গ্রামের আকরাম হোসেন (৩১), রাজিব শেখ (৩২), আলামিন মন্ডল (৩৩), রুহুল আমীন (৫২), আশিকুর রহমান (৩২), তাজিম শেখ (৫০)। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া একই গ্রামের কুদ্দুস শেখ (৬৫), দুলাল হোসেন (৪২), খুতে শেখও (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। তারা বাড়িতেই রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে পদ্মায় মাছ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। তারপরও নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা, বালু উত্তোলন ও জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন নিয়ে কয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম ও তার ভাগ্নে সালমান এফ রহমান বকুল গ্রুপের সঙ্গে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য বকুল বিশ্বাস ও জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল ইসলাম গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতা বকুল বিশ্বাস ও জেলে নেতা ইয়ারুল গ্রুপের অভিযোগ, রাশিদুল ও বকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল খালেকের ছেলে রিপন, শিপন, লিটনসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে এবং বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়েছে। এতে তাদের গ্রুপের অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিদুল ইসলাম গ্রুপের অভিযোগ, বকুল বিশ্বাস কয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাজীর ভাই সোহেল রানা, আওয়ামী লীগের সমর্থক ও জেলেদের নেতা ইয়ারুল ইসলামের সঙ্গে মিলেমিশে পদ্মায় মাছ, বালু লুট ও চাঁদাবাজি করার জন্য গুলি চালিয়েছে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে এসে দেখি হামলাকারীরা কেউ নেই। এখন পর্যন্ত ৬-৭ গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং কিছু বাড়িতে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন।’
বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে কি কারণে হামলা বা কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।’


