দেশজুড়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ের কারণ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাসের স্বল্পতা, উৎপাদন ঘাটতি এবং বাড়তি চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, জ্বালানি সংকট বর্তমানে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে এসি ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় সার্বিকভাবে বিদ্যুতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো যাচ্ছে না।
প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
উম্মে রেহানা বলেন, ‘গ্যাসের মাধ্যমে আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু বুধবার গ্যাস ব্যবহার করে ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ গ্যাসের স্বল্পতার কারণে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। তার মানে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াটের মতো আমাদের লোডশেডিং হয়েছিল। অন্যদিকে, আজ চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। পূর্বাভাসে দেখানো হয়েছে, আজ আমরা সব মিলিয়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব। আজও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি।’
তিনি বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কম, জ্বালানি বিভাগ এলএনজি আমদানি করে সেটাতে ফুয়েল মিশিয়ে আমাদের সরবরাহ করে। আমাদের ২ হাজার এমএমসিএফটি গ্যাসের প্রয়োজন হবে। এত গ্যাস জ্বালানি বিভাগ আমাদের সরবরাহ করতে পারছে না। কারণ বিভিন্ন কোম্পানি রয়েছে, আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদেরও গ্যাস সরবরাহ দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে সার উৎপাদন আমাদের কৃষির জন্য অত্যাবশ্যকীয়।’
কয়লাভিত্তিক আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে উম্মে রেহানা বলেন, ‘২৬ এপ্রিল সেকেন্ড ইউনিট ঠিক হয়ে যাবে। আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে যাব। এ ছাড়া বাঁশখালীতে এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমরা প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আশা করছি ২৮ এপ্রিল সেটাও আমরা পেয়ে যাব।’


