ভারতের উত্তর প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম কিন্টুরে আজও লুকিয়ে আছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনির পূর্বপুরুষদের স্মৃতি। লখনউ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ঘাঘরা নদীর তীরে অবস্থিত এই শান্ত গ্রামে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি শিয়া পরিবার বসবাস করছে।
এই পরিবারগুলোর একটি কাজমি পরিবার দাবি করে, তারা খোমেনির দাদা সৈয়দ আহমদ মুসাভি হিন্দির আত্মীয়। স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ নিহাল কাজমি জানান, তার পিতামহের পূর্বপুরুষ মুফতি মোহাম্মদ কুলি মুসাভি ও সৈয়দ আহমদ মুসাভি ছিলেন চাচাতো ভাই। আহমদের যাত্রা শুরু হয়েছিল এই কিন্টরে।
উনিশ শতকের শুরুতে কিন্টরে জন্ম নেওয়া সৈয়দ আহমদ মুসাভি ১৮৩০ সালে ব্রিটিশ শাসন এড়িয়ে প্রথমে ইরাকের নাজাফে যান এবং পরে ১৮৩৪ সালে ইরানের খোমেইনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই ‘খোমেনি’ উপাধির সূচনা। পরবর্তীতে তিনি একজন শিয়া আলেম হিসেবে পরিচিতি পান।
খ্যাতনামা গবেষক ও লেখক বাকের মইন তার গ্রন্থ ‘ খোমেনি: লাইফ অব দ্য আয়াতুল্লাহ’ তে উল্লেখ করেন, নাজাফে অবস্থানকালে আহমদ মুসাভি ইরানের ফারাহান অঞ্চলের জমিদার ইউসুফ খান কামারচির সঙ্গে পরিচিত হন। তার আহ্বানেই তিনি ইরানে স্থায়ী হন এবং খামেইনে একটি বড় বাড়ি ও বাগান কেনেন, যা বহু বছর ধরে পরিবারটির মালিকানায় ছিল।
সৈয়দ আহমদের বংশধারা ইরানের নিশাপুর থেকে ভারতে আসে প্রায় ১৮শ শতকে এবং কিন্টরে বসতি স্থাপন করে। পরে তার ইরান প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দুই অঞ্চলের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সংযোগ তৈরি হয়।
বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে দেশটির যে দৃঢ় অবস্থান, তা অনেকাংশেই খোমেনির আদর্শের ধারাবাহিকতা। স্থানীয়দের মতে, এই ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল কিন্টুরের মাটিতেই।
উল্লেখ্য, কিন্টুর শুধু খোমেনির পূর্বপুরুষদের জন্যই নয়, বরং সৈয়দ করামত হুসাইনের মতো ব্যক্তিত্বের জন্যও পরিচিত। তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
লখনউয়ে নারীদের শিক্ষার প্রসারে করামত হুসাইন মুসলিম গার্লস পিজি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। আজও কিন্টুর নিঃশব্দে বহন করে ইতিহাস, অভিবাসন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষ্য। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া


