গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুধু বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন সব মানুষের নেতা তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমান এসে শুধু বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লগ্নের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান।’
‘আমি সব সময় বলতাম স্বৈরাচারের দোসর কারা ছিলো? ১৯৮৬ সালে দেখেছেন, এখনো দেখছেন। কাজেই সংবাদকর্মীদের সজাগ থাকতে বলব’ মন্তব্য করেন তিনি।
নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দলটির ইতিহাস, এই দলের নেতাদের ইতিহাস কোনো দিনই জনগণের পক্ষে ছিল না। উনারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, উনারা জনগণের ওপরে চেপে বসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশটাকে মনে করে পৈতৃক সম্পত্তি। তবে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, শেষবিচারে জনগণ জানে তাদেরকে কিভাবে প্রতিহত করতে হয়, প্রত্যাখান করতে হয়।’
বিএনপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের আহ্বানে সারাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে জনগণের কাছে ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৮ মাস আগে থেকে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের এই কাজ শুরু হয়েছে, যা চলমান।’
‘তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা সিটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। কাজেই কে প্রার্থী হবেন, কে হবেন না সেটির জন্য আমাদের স্থানীয়, জেলার, আমাদের দলের পক্ষ থেকে জরিপ এবং সর্বোপরি যে সমস্ত কর্মী নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় তাদেরই বিএনপি মনোনয়ন দেবে’, বলে জানান এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
২০০৭-০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয় তারেক রহমানকে। মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান ২০০৮ সালে। তখন থেকে পরিবার নিয়ে সেখানেই আছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে আসেননি তারেক রহমান। গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আলোচনায় রয়েছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি।


