কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক বক্তৃতা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। এ বছর ‘সুফিয়া কামাল সম্মাননা’ পেয়েছেন চিত্রশিল্পী মো. আবুল হাশেম খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অতিথিরা। পরে তার কর্মজীবনের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতারের ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণে জননী সাহসিকা, কবি সুফিয়া কামাল’ প্রামাণ্যচিত্রটি দেখানো হয়।
শামীম আখতার প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘সুফিয়া কামালের জীবন ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। চলচ্চিত্রে তার জীবনের কিছু দুর্লভ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।’
মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা দেন ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারীর প্রতি বিরাজমান ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা নিরসনে সুফিয়া কামালের আলোয় পথচলা’।
ড. স্নিগ্ধা বলেন, ‘সুফিয়া কামালকে বাংলাদেশের রূপান্তরধর্মী নারীবাদের এক র্যাডিক্যাল স্থপতি ও নৈতিক নারীবাদী জনবুদ্ধিজীবী হিসেবে পুনঃপাঠ করা প্রয়োজন। তার কাজ ছিল নারীকে করুণার বিষয় থেকে মর্যাদার বিষয়ে এবং নীরব উপস্থিতি থেকে সক্রিয় ঐতিহাসিক সত্তায় রূপান্তর করা।’
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে সুফিয়া কামালকে নতুন ব্যাখ্যায় তুলে ধরতে হবে। নারীর মর্যাদা, অধিকার ও সামাজিক রূপান্তরের প্রশ্নে তাঁর দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট। নারীর নিরাপত্তা শুধু নারীর নয়, সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
সম্মাননা নিয়ে আবুল হাশেম খান বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামালের জনপ্রিয়তার পেছনে ছিল তার অসাধারণ মানবিকতা। তার সাহসী প্রেরণা আমাদের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য তার জীবন বড় শিক্ষা।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। মূল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম।


