সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গাজায় ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।’
ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’ এ অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। শুক্রবার সকাল ৯টায় র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ৫৪৭ জন অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।’
দেশের দুইটি শীর্ষ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা ছিল নীরব।’
সম্মেলনে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া দিয়াজ-স্ট্রাক বলেন, ‘তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার একটি স্বচ্ছ সমাজের ভিত্তি। মিডিয়া শুধু ব্যবসা নয়, এটি জনগণের আস্থার জায়গা।’
বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স, ‘রাজনৈতিক চাপ, সেন্সরশিপ ও সংবাদ ম্যানিপুলেশনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি, সংবাদ উৎসের সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিৎ।’
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি এবং অফিস প্রধান সুসান ভাইজ বলেন, ‘নতুন গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’


