ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, যেকোনো ধর্মের উপাসনালয়ে হামলাকারীরা অপরাধী, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই।
তিনি বলেন, ‘যদি মণ্ডপে হামলার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে আশপাশের যে কোনো ধর্মের মানুষের সহায়তা নেওয়া উচিত।‘
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের গোল পাহাড় কালীমন্দির ও শ্মশান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ধর্ম উপদেষ্টা।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কিছু হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়ে থাকে। মাজার বা মন্দির লক্ষ্য করে যারা অপবিত্রতা ঘটানোর চেষ্টা করে, তারা আইন বিরোধী কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করা।’
এ ছাড়া, আসন্ন দুর্গাপূজায় মন্দির ও মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি। ‘রাতের আঁধারে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে,’ বলেন ধর্ম উপদেষ্টা।
ধর্ম অবমাননা বা কটূক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধর্ম অবমাননা বা কটূক্তি করলে দায়ী হবে একক ব্যক্তি, কোনো সম্প্রদায় নয়। নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা বা প্রতিশোধ নেওয়া আইন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে।’
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো আজও এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকতে চাই। বাংলাদেশ আমাদের সবার, আমাদের মাতৃভূমি যেন সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের একটি রোল মডেল হয়, সে লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে।’
এ ছাড়া, আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, এই দেশকে আমরা সবাই ভালোবাসি। এর প্রতিটি অর্জনে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অবদান রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরের আগে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিতসহ স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতারা।


