চিকিৎসাসেবা সহজ ও নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু করতে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের নীতি হলো স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, আর এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, শুধু এলজিইডিরই প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারি ও অধীনস্থ সংস্থার এমন সব পরিত্যক্ত ভবনকে সংস্কার করে ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
বৈঠকে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতকের জন্ম হয়।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্যপদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে এদিন সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সংক্রান্ত সেলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারি নার্সারির পাশাপাশি বেসরকারি নার্সারি থেকেও চারা সংগ্রহ করা হবে।
খাসজমি, চরাঞ্চল, নদীর তীর, সড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশ, বনাঞ্চল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনাসহ যেখানে গাছ নেই সেসব স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। প্রতি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থে আনসার ও ভিডিপির জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী, বলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।


