বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত গ্রাহক ফোরাম। ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগসহ পাঁচদফা দাবি জানান ফোরামের সদস্যরা।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সকালে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে ঢাকার মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। সেই কর্মসূচি থেকেই এসব দাবি তোলা হয়।
এ সময় জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত প্লাটফর্মটির সদস্যদের লক্ষ্য করে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে ও জলকামান দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থান নেয়।
বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দাবি- সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে চাকরিতে পুনর্বহাল, গভর্নরের পদত্যাগ, এস আলমের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি করা এবং ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপ দখলে নেওয়ার আগের ব্যক্তিদের কাছে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার আগে একইদিন চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন।
ওইদিন পর্ষদ সভা হওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে তা স্থগিত হয়। পরে সভাটি সোমবার বেলা আড়াইটায় নির্ধারিত হয়। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের ওই সভায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভের কারণে তিনি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আসেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে বেলা আড়াইটায় ভার্চুয়াল পর্ষদ সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সবশেষ দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কের দুই প্রান্তে পুলিশ থাকলেও মাঝখানে ছোটো ছোটো দলে অবস্থান নিয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ এলাকায় পুলিশ ভ্যানের পাশাপাশি জলকামান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করবেন।


