ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ছয় হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে অসংখ্য নারী ও শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার ৭৭৭ জন বিক্ষোভকারী, ২১৪ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য, ৮৬ শিশু এবং ৪৯ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন, যারা বিক্ষোভের অংশ ছিলেন না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ দমন অভিযানে ৪১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তবে বিক্ষোভচলাকালে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ১১৭ জন। তাদের মতে, নিহতদের মধ্যে দুই হাজার ৪২৭ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, আর বাকিদের ‘দেশবিরোধী সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যানে এমন বড় অমিল থাকায় ইরান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিহতের সংখ্যা লুকানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ‘সম্ভাব্য সংঘাত’ মোকাবিলায় ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ নামের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে জাহাজের সঙ্গে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোও (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহজেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারবে।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো বলছে, তাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তারা সরাসরি অংশ নিতে চায় না।
অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ‘ট্রাম্পের সামরিক হুমকি স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত “সশস্ত্র গোষ্ঠী” ইরানের ভেতরে সহিংসতা উসকে দিয়েছে।’
গত ২৮ ডিসেম্বর ভঙ্গুর অর্থনীতি, তীব্র মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার দরপতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। ধীরে ধীরে তা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ খামেনির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন অবসানের দাবিতে রূপ নেয়।
বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ সশস্ত্র বল প্রয়োগ করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি অনলাইনে ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানোর পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়। সে সময় বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে একাধিক বার্তা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ওয়াশিংটন তেহরানে হামলা চালাতে পারে।


