কক্সবাজারের উখিয়া থেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার কমান্ডার জাহিদ হোসেন লালুকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তার কাছে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। আভিযানিক দলের নেতৃত্ব দেয় সেনাবাহিনী।
গ্রেপ্তার লালু (৪০) আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ এবং সীমান্তে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রেজোয়ানুল হকসহ একাধিক হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি। তিনি উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উখিয়া ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্নেল সায়মন সিকদার।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ৭ টায় কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। লালু অবস্থান করছেন এমন সন্দেহ থেকে একটি ঘর ঘিরে ফেললে ভেতরে থাকা ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। পরে যৌথ বাহিনী ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
যৌথ বাহিনী নিশ্চিত হয় তিনিই অভিযুক্ত লালু। তার দেহ তল্লাশি করে অস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

সায়মন সিকদারের তথ্যমতে, লালু দীর্ঘদিন ধরে আরসার প্রধান হাফেজ আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আরসার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেও সরাসরি জড়িত ছিলেন। লালুর নেতৃত্বে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অগ্নিসংযোগসহ নানাবিধ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয় জন ছাত্র-শিক্ষক হত্যার ঘটনায়ও সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এরইমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে লালুকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্নেল সায়মন।


