আরও দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হক গ্রেপ্তার

আরও দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হক গ্রেপ্তার
বিচারপতি খায়রুল হককে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় পৃথক দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে।

এর আগে, গত ১০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ উপপরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আসামি খায়রুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এছাড়া গত ২৯ এপ্রিল আদাবর থানাধীন এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায়  আসামি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন পুলিশ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান। পৃথক দুই আবেদনে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার তারিখ নির্ধারণ করে আদালত।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টায় খায়রুল হককে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পৌনে ১২ টায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে তোলা হয়। শুনানির সময় সাবেক প্রধান বিচারপতি চুপচাপ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন৷ খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পৃথক দু’টি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি দলীয়করণ করে ফ্যাস্টিস শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানের সব বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে শেখ হাসিনাকে ফ্যাস্টিস বানানোর মুল কারিগরি এই আসামি। যার কারণে মানুষ তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এসব কারণে সরকার তাকে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন শুনানিতে বলেন, আসামি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি। তিনি জুডিশিয়াল মব সন্ত্রাসের শিকার। একই ঘটনায় তিনটি মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ৫ মার্চ পাঁচ মামলায় তিনি জামিন পান৷ জামিন পাওয়ার পরপরই তাকে আরও দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আসামি জামিন পাওয়ার পরেও তাকে অন্য মামলায় কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আসামির ৮১ বছর বয়স। প্রায় এক বছর ধরে তিনি জেলহাজতে আটক রয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে তিনি আসামির জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানি শেষে এ দুই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক জামসেদ আলম। গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad