ইসরায়েলের ‘অবৈধ অবরোধ’ ভেঙে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের আটক করার পর ন্যূনতম আইনি সহায়তাও দেয়নি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। এমনকি প্রথম কয়েক ঘণ্টা তাদের পানি বা খাবারও দেওয়া হয়নি। কেউ ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরলে তৎক্ষণাৎ জাগিয়ে তুলেছেন ইসরায়েলি সেনারা। এমন দাবি করেছে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের আইনি সহায়তা কেন্দ্র ‘এডালাহ’।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একে একে ফ্লোটিলার সবগুলো নৌযান আটক করে সেখানে থাকা মানবাধিকারকর্মী, বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য, স্বেছাসেবী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সবাইকে ইসরায়েলে নিয়ে যায় দেশটির নৌবাহিনী। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে জানায়, আটক আরোহীদের সবাই অক্ষত আছেন। কেবল চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ ঠেকাতে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়া শেষে সবাইকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
তবে এডালাহ এক বিবৃতিতে দাবি করে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী- যেকোনো দেশের নাগরিক ভিন্ন কোনো দেশে আটক হলে, আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রাখে। এমন পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটক আরোহীদের আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে এডালাহ। ইসরায়েলি পুলিশের বাধার পরও তারা আটককৃতদের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে অটল থাকেন, অবশেষে আশদোদ বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এসময় তারা জাহাজে থাকা পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর বিস্তারিত তথ্য চাইলেও ইসরায়েলি বাহিনী কেবল নির্বাচিত ৩৩১ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অনুমতি দেয়।
এডালাহের আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে কথা বলে জানান, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী দাবি করেছেন- তারা ইসরায়েলি আক্রোশের শিকার হয়েছেন। হুমকি, হেনস্তা এবং হয়রানির মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের। এমনকি যখন তারা ঘুমানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদেরকে জোর করে জাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, ফ্লোটিলা থেকে আটককৃতদের অনেককে ইসরায়েলের দক্ষিণ নেগেভ শহরের কেতজি’ওত কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ বিষয়টিও আইনজীবীদের জানানো হয়নি।
‘এডালাহ সব স্বেচ্ছাসেবীর হিসাব চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কারাগারে গিয়ে আটককৃতদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এডালাহ তাদেরকে “অবৈধ আটক” থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং মানবিক সাহায্য সরবরাহ ফেরত পেতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে’, বিবৃতিতে উল্লেখ করে এডালাহ।
এদিকে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ অব গাজা’। আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তারা অনশনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, গাজার ওপর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
সমুদ্রপথে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠাতে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নৌবহর। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বহর। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন নৌযান। সবশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের ৪০টি নৌযান। যেগুলোয় গাজার জন্য সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন অন্তত ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ।
নৌযানগুলো যখন গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে, সেসময় তাতে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরের সবগুলো নৌকা থামিয়ে তারা আটক করে অধিকারকর্মীদের।


