জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধানদাতার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে অস্ত্রগুলো হারিয়ে গেছে, এগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা একটা সার্কুলার দিচ্ছি। একটি পুরস্কারও ঘোষণা করছি। যে তথ্য দেবে, তাকে আমরা কত টাকা দিতে পারি, সে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে একটা কমিটি করে দু’-চার দিনের মধ্যে হয়তো গণমাধ্যমে ঘোষণা দেব। কেউ যদি খবর দিতে পারেন, তিনি পুরস্কার পাবেন।’
এ সময় উপদেষ্টা জানান, লুট হওয়া ৭০০টিরও বেশি অস্ত্রের এখনও খোঁজ মেলেনি।
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রায় সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদেরও ধরা হবে। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এ হত্যা মামলায় দ্রুত চার্জশিটও দেওয়া হবে।’
পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এ সময় গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি।
লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (সাব মেশিন গান), এলএমজি (লাইট মেশিন গান), পিস্তল, শটগান, গ্যাস গান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাস শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন মাপের গুলি রয়েছে।
লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে অনেক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


