দলীয় শৃঙ্খলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।
দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সারাদেশে সংগঠনের প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মোনায়েম মুন্না অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে যুবদলকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, দলীয় কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাগবিতণ্ডা হয়নি এবং হট্টগোলের খবর অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়া সমন্বিতভাবে কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যুবদল সভাপতি বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল সুশৃঙ্খল, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী।
কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সংগঠন কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদল সভাপতি আরও জানান, বহিষ্কারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাবে না এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাংগঠনিক টিম গঠন করা হচ্ছে, যারা মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে।
আবদুল মোনায়েম মুন্না জানান, যুবদলের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেতু নির্মাণ, খাল খননসহ নানা সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী দিনেও সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলন সফল করতে সংগঠনের ৭৮ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, শত শত নেতাকর্মী স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজারো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


