বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের প্রহর গুনছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমে গোল হজম, এরপর লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস, মিসরের গোলরক্ষক মোহামেদ এল শোবেইরের একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যাত্রা বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন মেসিরা। শেষ দিকে টানা তিন গোল করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। প্রথমার্ধের ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার নেওয়া কর্নার থেকে বক্সের মাঝখানে উড়ে আসা বল ইয়াসের ইব্রাহিম শক্তিশালী হেডে জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।
গোল হজমের পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। ২০তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলেও লিওনেল মেসির শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোহামেদ এল শোবেইর। সেই সেভে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মিসর শিবির।
এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি আর্জেন্টিনা। ২৮তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত হেড ফিরিয়ে দেন শোবেইর। ৪০তম মিনিটে কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে হুলিয়ান আলভারেজ একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও আবারও অবিশ্বাস্য সেভ করেন মিসরের গোলরক্ষক। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও পাল্টা আক্রমণে ভয়ংকর ছিল মিসর। ৫৮তম মিনিটে জিকো দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় এর আগের বিল্ড-আপে ফাউল হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।
এর ৮ মিনিট পরই অবশ্য ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জিকো। এবারও কাউন্টার অ্যাটাক থেকেই আসে গোল। বল নিয়ে একাই আর্জেন্টিনার বক্সের কাছে চলে যান মোহাম্মেদ সালাহ। সেখানে গিয়ে বক্সের ডানপ্রান্তে হাইসেম হাসানকে পাস দেন তিনি। হাইসেম আরেকটু সামনে গিয়ে ছয় গজ বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান। সেখান থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান জিকো।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আরও মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। আক্রমণের পর আক্রমণে অবশেষে সাফল্য আসে ৮১তম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে আসা নিখুঁত ক্রসে ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। মাত্র তিন মিনিট পরই নিজের পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে জাদু দেখান লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান অধিনায়ক।
সমতায় ফিরেও থামেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দলকে।
এই গোলটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় মিসরের খেলোয়াড়রা। আক্রমণ শুরুর আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও রেফারি গোল বহাল রাখেন। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মিসরের কোচিং স্টাফের একজন লাল কার্ড এবং গোলরক্ষক শোবেইর হলুদ কার্ড দেখেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি ও তার সতীর্থরা। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের স্মরণীয় জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর সেই নাটকীয় জয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।


