ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় বিদিশার জামিন নামঞ্জুর

ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় বিদিশার জামিন নামঞ্জুর
Advertisement
Advertisement

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল গ্রহণ করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে।

বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিদিশার আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির জানান, দুই বছরের সাজার বিরুদ্ধে তারা আদালতে আপিল করেছেন এবং আদালত সেটি গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানিতে বিদিশার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের বিষয়টি তুলে ধরে মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে আদালত তার হাজতবাসের সময় কম হওয়ায় জামিন আবেদন নাকচ করে।

আইনজীবী জানান, জামিনের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন তারা।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী মোশাররফ হোসেন বারিধারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাটটি বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

এরপর ২০০১ সালের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে মোশাররফকে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তার বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন মোশাররফ।

অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়া এবং বাকি অর্থ পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

ফ্ল্যাটের জন্য চাপ দেওয়া হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বিদিশা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোশাররফকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ডিজঅনার হয়।

এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া—কোনোটিই করা হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাওনা টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে মোশাররফকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলা করেন। পরের বছর ৯ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর