সারা দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মানী পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বুধবার বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচির প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সম্মানী বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও ৯ জনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
কেন শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন, তার যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দেখেছি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা তাড়াতাড়ি ক্লাস করে হয়ত আরেকটি সেকেন্ডারি কোনো জবে অথবা কৃষি কাজ—যেটাই হোক, একটি সেকেন্ড জবে তাকে যেতে হয়। তা না হলে তার জন্য সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। সেকেন্ডারি স্কুলের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি এরকম ঘটনা ঘটে। এই কাজটি যাতে তাদের না করতে হয় এবং তারা যাতে সঠিকভাবে তাদের সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন, সেজন্য তাদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’
অতীত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সময় শুধু বিল্ডিং হয়েছে কিন্তু হিউম্যান রিসোর্সের (মানবসম্পদ) কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা যদি আমাদের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি শিক্ষকদের সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে না পারি, ট্রেনিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্মানী বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না যে তারা ভালো কিছু ডেলিভার করতে পারবে।’
তিনি জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিকভাবে সম্মানী বাড়ানোর কাজটি সরকার বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে’
সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে ড্রেস ও স্কুলে ব্যাগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের স্কুল ড্রেস প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে তাদের স্কুল ব্যাগও দেব।’
তিনি জানান, সমগ্র বাংলাদেশে সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাচ্চা পড়াশোনা করছে। সব সংসদ সদস্যের এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘চীনে কাঁঠাল রপ্তানির বড় সম্ভাবনা’
অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল এবং কৃষি পণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘চীন সফরে আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশে যে কাঁঠাল, এটি অত্যন্ত পপুলার। চাইনিজ মানুষরা খুব পছন্দ করে কাঁঠাল। আমরা এই দেশ থেকে ইনশাল্লাহ তাদের কাছে কাঁঠাল রপ্তানি করব।’
এই প্রসঙ্গে নিজের মালয়েশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছেন, উনাদের ওখানে একটি ফল হয় ‘ডুরিয়ান’, যা দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। মালয়েশিয়া প্রতিবছর চায়নাতে ১ বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করে। তারা যদি পারে, নিশ্চয়ই আমরাও পারব। কাঁঠাল এক্সপোর্টের মাধ্যমে আমরা ইনশাল্লাহ বড় একটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।’


