পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ভেসে গেছে বহু মাছের ঘের ও পুকুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার জেলে ও ঘাট শ্রমিক।
বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জেলার রাঙ্গাবালী, দশমিনা, কলাপাড়া ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে চাষ করা মাছ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষকরা জানান, এই বৃষ্টিতে কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকার এই বিরূপ পরিস্থিতি আরও দুই-একদিন স্থায়ী হতে পারে।
কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার কাজ চলছে। কলাপাড়া মৎস্য অফিসার অপু সাহা জানান, নিখোঁজ ১৩ জেলের মধ্যে আরও ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও আটজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে পৃথক ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছয় জেলেরও খোঁজ মেলেনি।
সাগর উত্তাল থাকায় আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে কয়েক হাজার ট্রলার নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, সমুদ্রে ইলিশ মেলায় জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাগরে যেতে চাচ্ছেন। মাছ না থাকায় ঘাটের হাজার হাজার শ্রমিক এখন বেকার।
নতুন করে কোনো ট্রলার যেন গভীর সাগরে না যায়, সেজন্য কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ উপকূলীয় ঘাটগুলোতে মাইকিং করছে।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় তারা যেন গভীর সমুদ্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে না যান, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’


