জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে আবারও একদলীয় শাসনের পাঁয়তারা চলছে।
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এই পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের স্বৈরাচারী আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে দেশে এক দলের শাসন ছিল, যেখানে কারও কথা বলার অধিকার ছিল না ও গুমের সংস্কৃতি চালু ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আবারও বাংলাদেশকে সেই একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি সংসদেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং জনসভায় কথা বলতে গেলে বোমা ও ককটেল হামলা করা হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা আবারও এই ধরনের একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়, তাদের আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ রাখা উচিত। দীর্ঘ ১৬ বছর একদলীয় শাসন টিকিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে হেলিকপ্টারে করে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ককটেল ফাটিয়ে বা বোমা মেরে এনসিপির পদযাত্রা বন্ধ করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সখিপুরবাসী সব ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এক দলের লুটপাট সরিয়ে অন্য আরেক দলের লুটপাট প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের ছাত্র-জনতা বা তরুণরা জীবন দেয়নি, বরং তারা জীবন দিয়েছে দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য। যদি সমাজে মাদক, লুটপাট ও দুর্নীতি আগের মতোই অব্যাহত থাকে, তবে সেই আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না।
একই সঙ্গে দেশের চলমান ‘মামলা বাণিজ্য’ ও হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে নিরীহ ব্যবসায়ী ও মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ফায়দা লুটছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে, কিন্তু কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
উক্ত পদযাত্রা ও পথসভায় আরও অংশ নেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সখিপুর পৌরসভায় এনসিপির মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


