দুর্যোগের সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকার, বেসরকারি খাত ও অলাভজনক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মধ্যে একটি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা এই অংশীদারত্ব কাজে লাগাব।’
রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এইচএসবিসি ব্যাংক ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ কার্যক্রম নয়, এর বাইরেও অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্যোগেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এগুলো দুর্নীতি, অপচয় কিংবা অদক্ষতার কারণে হতে পারে। অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ ধরনের অপচয় কমানো সম্ভব এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।’
পরিবার কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা হবে না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনীতিকরণ নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’
তিনি জানান, এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভুলের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটিকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, ‘পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ১ দশমিক ২ শতাংশ ভুলের হার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ভালো ফলাফল।’
১১ হাজার ৮৫০ উপকারভোগী পাবেন সহায়তা
চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১১ হাজার ৮৫০ জন মানুষকে সহায়তা দেবে এইচএসবিসি ব্যাংক ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগটি। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনরুদ্ধার ও জীবন পুনর্গঠনে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা এবং তাদের জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করা।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া এবং এইচএসবিসি ব্যাংক ও ব্র্যাকের কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


