সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে ট্রোল করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
দেশ ও জাতির সামগ্রিক অগ্রগতির স্বার্থে এই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতি যদি এভাবে অন্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।’
শনিবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে তৈরি সাম্প্রতিক বিতর্ক ও ট্রোলের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষাসংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র চার মাস। একটি নতুন মডারেশন ও প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগে।’
তিনি দাবি করেন, এসএসসি পরীক্ষার মতো এইচএসসি পরীক্ষাও অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নিজের একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, সিটি কলেজের এক নারী শিক্ষার্থীর বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দেওয়া এবং পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে সহমর্মিতাসূচক কথা বলেছিলেন, সেটিকে একটি মহল খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ট্রোল করেছে।
তিনি জানান, আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল এবং বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বোর্ডকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়ে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি দাবি করেন, মূল পরীক্ষার্থীরা কোনো আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি, বরং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিমভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছে, যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে বাংলাদেশে আসবে।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা খাতের ব্যবসার উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে ব্রিটিশরা শিক্ষা খাত থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করতে চায়, সেখানে বাংলাদেশ আগামী দিনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দেশের মানুষের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে এক নম্বর ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ বা এডুকেশন হাবে রূপান্তর হবে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো।


