টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ট্রেনে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ অন্য যাত্রীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী সেকশনে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী গ্যাংকারে করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান। পরে তিনি রেললাইন ও আশপাশের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের সংকটমুক্ত করতে চাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করতে চাই। তাহলে অতিবৃষ্টি হলেও রেললাইন আর পানির নিচে তলিয়ে যাবে না এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’
তিনি জানান, এ প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে আছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পানি না কমা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। যেসব যাত্রী আগাম টিকিট কেটেছেন, তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১১টায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
তবে বাতিল হওয়া এসব ট্রেনের যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চান, তারা সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টার থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে পারবেন।
এই রেলপথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেললাইন ডুবে যাওয়ায় সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। এখনও রেললাইনে পানি জমে আছে। পানি সরে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’


