কানাডা ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হলেও এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সূচনা হলো।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উভয় দেশের কারিগরি দল প্রথম দফার আলোচনার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট পরিধি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
সম্ভাব্য এই চুক্তিতে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি, খনিজ, মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।
উভয় দেশই আশাবাদী, এই উদ্যোগ তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কানাডার উদ্যোগে একটি নতুন আন্তর্জাতিক ডিফেন্স, সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ব্যাংক (ডিএসআরবি) গঠন করা হবে। এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে নয়টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়া দেশগুলো হলো—কানাডা, আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, রোমানিয়া, তুরস্ক এবং ইউক্রেন।
প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির সদর দপ্তর কানাডায় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ, ঋণ গ্যারান্টি এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নিরাপত্তা অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।
ব্যাংকটি প্রায় একশত চৌত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে চায়।


