দেশে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে মোবাইল ফোন সেটের দাম বাড়বে না বলে আশ্বাস দিয়েছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। বাজারে ছড়ানো অপতথ্য যাচাই না করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় মোবাইল উৎপাদক সংযোজকদের সংগঠনটি জানায়, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে স্থানীয় মোবাইল ফোন শিল্পের অপমৃত্যু ঘটবে।
সংগঠনটির হিসেবে, এনইআইআর চালু হলে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে দাম কমার পরিবেশ তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তাদের ডিস্ট্রিবিউটররাও দাবি করেন, দেশের বিপণন ব্যবস্থায় বিক্রয় প্রতিনিধি থেকে সেলসম্যান পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ মানুষ বৈধ ফোন ব্যবসার সঙ্গে রয়েছে। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিন্নধর্মী আবেগী ন্যারেটিভ তৈরি করে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এমআইওবি সাধারণ সম্পাদক জানান, মোবাইল ফোনসেট আমাদানির ওপর ২০১৯ সালে আরোপিত ৫৭ শতাংশ শুল্ক-কর কমাতে সরকার শিগগির পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের মতে, কর কাঠামো নিয়ে অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় উৎপাদন ও আমদানিতে একই ধরনের শুল্ক কাঠামো রাখা সম্ভব নয়।
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ দাবি করেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে চোরাই মোবাইলের প্রবাহ কমবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং কোনো প্রবাসী এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
স্থানীয় শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে শাওমির বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যারা কর ফাঁকি বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ করছেন বস্তবে পরিস্থিতি উল্টো। তার ভাষায়, তারা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের রপ্তানিমুখী মোবাইল উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে কাজ করছেন। অথচ বর্তমান বিতর্ক ও অপতথ্য এই খাতকে মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলছে।
এমআইওবি দাবি করে, গ্রে ফোন আমদানি বন্ধ হলে অফিশিয়াল দামের চেয়ে কম দামে প্রিমিয়াম ফোন কিনতে পারবেন ক্রেতারা। আন্দোলনকারী মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের ১০ শতাংশ কমিশনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অফিশিয়াল ফোনের ব্যবসা করারও প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।
তাদের মতে, দেশে এখন প্রায় ১২ হাজার মোবাইল দোকান রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ এমআইওবির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করে। আন্দোলনে শুধু বসুন্ধরা সিটি মার্কেট ও যমুনা ফিউচার পার্কের দোকান বন্ধ থাকলেও অন্যসব দোকান স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ভিভো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইমাম উদ্দীন, স্যামসাং উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এক্সেল টেলিকমের সেলস হেড মো. সাইফুদ্দিন টিপুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা সরকারকে কর দিয়ে বৈধভাবে বাজারে আসা ফোন ছাড়া অন্য ফোন দেশের নেটওয়ার্কে চলতে দেবে না।
এদিকে, ব্যাগেজ রুলসের আওতায় প্রবাসীদের আনা ফোন ও কালোবাজারে আসা ফোনের একটি বড় বাজার ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় হাজারো দোকানাদার এগুলোর স্টক নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় আছে।
আগে বিভিন্ন সময়ে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর এবার তা হঠাৎ বাস্তবায়নের ঘোষণা আসায় তারা মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ-এর ব্যানারে আন্দোলন করে তা পিছিয়ে দেয়ার দাবি করে যাচ্ছে।
রোববার বিটিআরসি ঘেরাও করে তারা আন্দোলন করার পর, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।


