ই-টেন্ডার সহজ করতে এত সময় কেন? সংসদে প্রশ্ন

ই-টেন্ডার সহজ করতে এত সময় কেন? সংসদে প্রশ্ন
Advertisement
Advertisement

শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারি ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হলেও এ বিষয়ে কেন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।

রোববার বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ হলে শিক্ষিত বেকার যুবক, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

সংসদ সদস্য প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করতে আর কত সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যদি একদিন বা সাত দিনে এটা করতে পারে, তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

মোশারফ হোসেন আরও বলেন, শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের ২০ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কতদিনের মধ্যে আসবে—সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।

আরও পড়ুন

নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা এবং অন্যান্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বর্তমানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরকারি ক্রয়ে মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় বলেও জানান তিনি। এর একটি সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম), যেখানে নির্ধারিত প্রাক্কলিত মূল্য সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যটি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম), যা যেকোনো পরিমাণ মূল্যের প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করে থাকে। সরকার এসব আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে। ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়েও সরকার সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে এবং জনগণের স্বার্থে তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে যথাসময়ে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হবে।

আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও ই-টেন্ডার সহজীকরণের বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন ও বিধি অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আলোচনার একপর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, বর্তমান সরকার সেইভাবে কাজ করার সুযোগ পায় না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। তাই সংবিধান, আইন ও বিধি অনুসরণ করেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপ আইন ও বিধিমালার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন করতে হয়। তিনি আরও বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় লাগে। তাড়াহুড়ো করে যদি আইনের ব্যত্যয় করা হয়, তাহলে সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হবে।

তবে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের বক্তব্যকে যুক্তিসংগত উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর