ই-কমার্সে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের তিন নির্দেশনা

ই-কমার্সে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের তিন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দেশের ই-কমার্স খাত ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক প্রতারণা ও অনিয়মের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জালিয়াতি বন্ধ করতে এবং সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে তিন ধাপের নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

রোববার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালির ৭১ বিধি অনুসারে জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সংসদ অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে ই-কমার্স খাতের প্রতারণা ও সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন বহুল আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটায়। এর মধ্যে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং এবং আলেশা মার্ট সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতারিত গ্রাহকরা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাখিলকৃত এসব লিখিত অভিযোগের বিপরীতে দাবিকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের পাওনা অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া তদারকি করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছে।

স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ একটি সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান যে ইভ্যালি বা আলেশা মার্টের মতো যেসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে আছে, সেই ক্ষতিপূরণ বা টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সরকারের সরাসরি কী পরিকল্পনা রয়েছে।

এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ই-কমার্স সেক্টরে অতীতের অনিয়মগুলোর কারণে গ্রাহকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যা বর্তমান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে। ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি চালুর ফলে এখন থেকে প্রতিটি বৈধ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আইনি তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকছে, যা ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমা পড়া ৫৮ হাজারেরও বেশি অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর