ইরা মনি হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

ইরা মনি হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু ইরা মনিকে হত্যাচেষ্টার পর ফেলে রেখে পালিয়ে যান পাশের বাসার ভাড়াটিয়া বাবু শেখ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নেসা ইরা মনি হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় হত্যাকাণ্ডের চার মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করে এ রায় ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুটি ধারায় তাকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইরা মনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আরও পড়ুন

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া বাবু শেখ ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে বাসে করে তারা সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরা মনির গলায় আঘাত করে তাকে ফেলে পালিয়ে যান।

পরে পাহাড়ে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা গুরুতর আহত অবস্থায় ইরা মনিকে উদ্ধার করেন। তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ইরা মনির বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ। ঘটনার দুই দিন পর, ৩ মার্চ, কুমিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩০ জুন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর